বুধবার ০৬, মে ২০২৬

০৬ মে ২০২৬, ০১:৫২ এএম

শাহবাগ এক দিনে তৈরি হয়নি, এটি ‘শতবর্ষী প্রজেক্ট’: সাদিক কায়েম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

1691

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম শাহবাগ আন্দোলনকে একটি ‘শতবর্ষী প্রজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিশন গঠন ও বিচার নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাবি শাখা আয়োজিত ‘শাপলা ও শাহবাগ: মুসলিম রাজনৈতিকতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের দ্বৈরথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, শাহবাগ আন্দোলন হুট করে একদিনে তৈরি হয়নি, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল। অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোর বিচার না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও বিচারব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে অনেক ঘটনার সত্য ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং দায়ীদের বিচারের জন্য দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠন, একে রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ধারা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালার মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করা হয়েছে। ‘সোচ্চার’-এর সভাপতি ড. শিব্বির আহমদ তাঁর বক্তব্যে অতীতে নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার সভাপতি মুহা. মুহিউদ্দীন খান বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নিরপেক্ষ পুনর্মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। আলোচনা সভা শেষে সিরাত বিষয়ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!