রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ এএম

প্রযুক্তি ব্যবহারে এগোলেও উদ্ভাবনে পিছিয়ে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

1702

দেশে গত এক দশকে মোবাইল গ্রাহক, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ডাটা ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ এখনো মূলত “প্রযুক্তি ব্যবহারকারী বাজার” হিসেবেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সফটওয়্যার রপ্তানি এবং বৈশ্বিক আইটি সেবা খাতে দেশের অবস্থান এখনো প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে “টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবি’র হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম।

তিনি জানান, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৫–২৬ সালে দেশে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩৭ শতাংশ বেড়ে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৩.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ৮৬ জিবিপিএস থেকে বেড়ে প্রায় ১০ হাজার ৯৫৪ জিবিপিএসে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১২৭ গুণ বৃদ্ধি। পাশাপাশি গ্রাহক প্রতি গড় ডাটা ব্যবহার ১০০ এমবি থেকে বেড়ে ৮ জিবি হয়েছে।

তবে এই অগ্রগতির পরও বাংলাদেশ এখনো মূলত “ডিজিটাল কনজাম্পশন মার্কেট” হিসেবে রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উচ্চমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক সেবা রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, টেলিকম খাত সঠিক নীতি সহায়তা পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। বর্তমানে এই খাতের অবদান প্রায় ৮ শতাংশ হলেও তা আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিয়েও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয় আলোচনায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ১৪ হাজার ৮৩৩ জিবিপিএস, যার বেশিরভাগই ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্লাউড কম্পিউটিং ও ৫জি বিস্তারের কারণে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই চাহিদা ১২০ টেরাবিট পার সেকেন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বিশাল চাহিদা মোকাবিলায় সাবমেরিন কেবল সম্প্রসারণ ও নতুন অবকাঠামো উন্নয়ন চললেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মত দেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, টেলিকমিউনিকেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনডেক্স ২০২৪-এ বাংলাদেশের অবস্থান ১৯৩ দেশের মধ্যে ১২৩তম, যা অবকাঠামো উন্নয়নের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া মোবাইল ব্রডব্যান্ডে ডাটা খরচ তুলনামূলক কম হলেও স্মার্টফোন ব্যবহার ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের মান উন্নয়নে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশের ইন্টারনেট ট্রাফিকের বড় অংশই গ্লোবাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল, যা স্থানীয় প্রযুক্তি খাতের বিকাশে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতি সহায়তা, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

Link copied!