প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
1693
৩১ মে ২০২৬, ০১:২০ এএম
দেশে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ ধরনের সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে সরকারকে এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মোটরসাইকেলের ওপর নতুন কর আরোপের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মোটরসাইকেল মালিক ও চালক কোনো বিত্তশালী শ্রেণির মানুষ নন। বরং তারা জীবিকা নির্বাহ, কর্মস্থলে যাতায়াত এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। তাই তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা যৌক্তিক হবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সাধারণ মানুষের কষ্টের জীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। সরকার যদি এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তাহলে সেটি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের মালিকদের বছরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। এছাড়া মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে কর নির্ধারণের চিন্তাও করা হচ্ছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল এই করের আওতার বাইরে থাকতে পারে। ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা এবং ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির বাইকের জন্য ৫ হাজার টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিগত গাড়ি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও নতুন কর কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে এনবিআর।
নতুন এই কর প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ মনে করছেন, দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বাহনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ তাদের আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।