শনিবার ৩০, মে ২০২৬

৩০ মে ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

1706

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ৭১ দশমিক ০৫ কোটি মার্কিন ডলার তহবিল সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা ও আশ্রয়সহ বিভিন্ন খাতে কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সহায়তায় এই অর্থ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার জাতিসংঘ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)-এর হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে এই আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও মানবিক অংশীদাররা যৌথভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন UNHCR-এর ডেপুটি হাই কমিশনার কেলি টি. ক্লেমেন্টস, World Food Programme-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রানিয়া দাগাশ-কামারা, UN Women-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা, বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর। ৫২টি বাংলাদেশি সংস্থাসহ মোট ৯৮টি মানবিক অংশীদার এই সহায়তা আবেদনে যুক্ত রয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকটের কারণে তহবিল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এরপরও বাংলাদেশ যে উদারভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে।

চার দিনের একটি যৌথ উচ্চপর্যায়ের দাতা সফরের পর এই আহ্বান জানানো হয়। সফরে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি পরিদর্শনের পাশাপাশি সরকার, জাতিসংঘ ও এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান হলো মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। তবে সেই পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এতে সীমিত সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এই পরিকল্পনায় খাদ্যের জন্য ২৪ দশমিক ৭৩ কোটি, আশ্রয়ের জন্য ১২ দশমিক ৮ কোটি, পানি ও স্যানিটেশনের জন্য ৬ দশমিক ১২ কোটি, শিক্ষার জন্য ৫ দশমিক ২৭ কোটি, স্বাস্থ্যের জন্য ৪ দশমিক ৯৯ কোটি এবং জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ৩ দশমিক ৫১ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় রাখা হয়েছে ৩ দশমিক ৬২ কোটি ডলার।

২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রায় ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

Link copied!