প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
1695
৩০ মে ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
রেললাইনে ধান কাটার পর অবশিষ্ট খড় শুকানোর কারণে ট্রেনের ‘হুইল স্লিপ’ (চাকা পিছলে যাওয়া) করায় দুই থেকে তিনটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্ব ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রবিবার (২৪ মে) সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) ঈদুল আজহার ঘরমুখী মানুষের ঈদ যাত্রার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, সকাল থেকে ট্রেন চলাচলের সবকিছু মোটামুটি স্মুথলি চলেছে। তবে আমি যতটুকু খবর পেয়েছি, তাতে দুটি বা তিনটি ট্রেনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন আসতে দেরি করেছে, কারণ রেললাইনের ওপর প্রচুর খড় বিছিয়ে রাখা হয়েছিল। গ্রামীণ এলাকায় রেললাইনের ওপর ধানের অবশিষ্ট অংশ বা খড় শুকানোর জন্য মেলে দেওয়া হয়। এর ফলে ট্রেনের চাকা রেল লাইনের ওপর পিছলে বা হুইল স্লিপ করে। পরবর্তীতে আমাদের维修 বা রিলিফ ট্রেন পাঠিয়ে সেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণেই ২০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রেনের বিলম্ব ঘটেছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, রেললাইনের ওপর মাইলের পর মাইল খড় বিছানো থাকে। এগুলো সরাতে গেলে স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের রেল কর্মচারীদের মারধর পর্যন্ত করে। এই ধরনের একটা প্রতিকূল ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব স্টেশন এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয় বা বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সেগুলোতে সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশ শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় এবং রেলের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে শেখ রবিউল আলম বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও যাত্রীদের যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ট্রেনের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, এটা সত্য। আমরা প্রতিদিন স্বাভাবিক সময়ে ৩২ হাজার মানুষকে আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রার সুযোগ করে দিতে পারি। ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আরও ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৪ হাজার যাত্রী অর্থাৎ মোট ৩৬ হাজার যাত্রী পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। ফলে বিপুল চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত ট্রেন, লোকোমোティブ (ইঞ্জিন) ও কোচ আমরা এখনো প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি।
তবে বড় কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব রুটে বা জায়গায় দুর্ঘটনা বা বগি লাইনচ্যুত (ডিরেল) হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে এবার ঈদের আগেই বিশেষ কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিবিড় মনোযোগ রয়েছে। বর্তমান ট্রেন লাইনের যে অবস্থা, তাতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই, এতটুকু আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আমাদের ব্যবস্থাপনায় আমরা সর্বোচ্চ মনোযোগ রেখেছি।
সীমাবদ্ধতার মাঝেও এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে দাবি করে রেলমন্ত্রী বলেন, যাত্রীরা আমাদের জানিয়েছেন যে পূর্বের জরাজীর্ণ অবস্থার তুলনায় এখনকার সার্ভিস, পরিবেশ এবং শিডিউল অনেক ভালো। এবার টিকিটের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা কালোবাজারি সিন্ডিকেট হতে দেওয়া হয়নি। শতভাগ অনলাইনের ভিত্তিতে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ নিয়মে স্বচ্ছতার সাথে টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমি সন্তুষ্ট। পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন— রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।