প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
1698
৩০ মে ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
চলতি বছরে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধিত সব হজযাত্রী ও ব্যবস্থাপনা সদস্য সফলভাবে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বাংলাদেশ হজ অফিসের সমন্বিত সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ অংশের এবারের হজ ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী পবিত্র ভূমিতে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে গেছেন ৭৩ হাজার ৯২৬ জন হজযাত্রী। এ ছাড়া হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট এজেন্সি, হাব (এইচএএবি) প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গাইড টিমের সদস্যসহ মোট ৭৭৪ জন বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সৌদি আরবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত মোট ২৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন।
হজ ব্যবস্থাপনা সূত্র অনুযায়ী, এবার বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মোট ২০১টি বিশেষ হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৯৮টি ফ্লাইটে ৩৮ হাজার ৭০২ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ৭৩টি ফ্লাইটে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩০টি ফ্লাইটে ১২ হাজার ১৫৭ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছে দিয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছিল এবং শেষ ফ্লাইটটি গত ২১ মে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। আগামী ২৬ মে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে থেকে হাজিদের নিয়ে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং দেশে ফেরার এই শেষ ফ্লাইট আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পবিত্র ভূমিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত যে ২৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী রয়েছেন। মৃত্যুর ঘটনাগুলো মক্কা ও মদিনায় ঘটেছে, যার মধ্যে মক্কায় ১৮ জন এবং মদিনায় ৯ জন ইন্তেকাল করেন। নিয়ম অনুযায়ী, হজে গিয়ে কোনো মুসলমান ইন্তেকাল করলে তাঁর মরদেহ নিজ দেশে আর ফেরত আনা হয় না, মক্কা বা মদিনার নির্ধারিত কবরস্থানেই ধর্মীয় মর্যাদা মেনে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। বাংলাদেশ হজ অফিস জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে হজযাত্রীদের সব ধরনের সেবা, চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।