রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২২ এএম

নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পুলিশকে আরও জনবান্ধব করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ এএম

1697

পুলিশ বাহিনীর নৈতিক শক্তি ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাস করে। ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের জন্য জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী আলোচিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় বিশেষ অবদান রাখা পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তিনটি আলোচিত ঘটনায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা সনদ ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা ও সদস্যকে বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া নৌ পুলিশের তিন সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণত পুলিশ সপ্তাহ কিংবা পুলিশ সদর দপ্তরের বার্ষিক আয়োজনে এ ধরনের পদক ও ব্যাজ প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে উৎসাহিত করা এবং তাদের মনোবল আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এবার মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুলিশের প্রতি যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে পুলিশ আগের তুলনায় আরও বেশি জনমুখী হয়েছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং অপরাধের হারও কমেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে থাকে। তবে অপরাধসংক্রান্ত সরকারি তথ্য-উপাত্ত মাঠপর্যায় থেকে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হয় এবং তা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

মামলা তদন্তে অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্ত ও পোস্টমর্টেম কার্যক্রমে বিদ্যমান বরাদ্দ সবসময় পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম প্রক্রিয়া এবং পুলিশি টহল আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

পলাতক বা শৃঙ্খলাভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রচলিত আইনের আওতায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

যেসব ঘটনায় পুরস্কৃত হলেন পুলিশ সদস্যরা
পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সংঘটিত আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, ডিএনএ পরীক্ষা ও পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং আদালতে কার্যকর তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন, এসআই অহিদুজ্জামানসহ মিরপুর জোনের মোট ৯ জন কর্মকর্তা সম্মাননা লাভ করেন।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ পুলিশের সাহসিকতা

ঈদ-পরবর্তী সময়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্ব পালনকালে একটি যাত্রীবাহী বাসে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে অন্তত ৫০ জনের প্রাণ রক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য নৌ পুলিশের তিন সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের মধ্যে এসআই মোহাম্মদ আবুজার গিফারী অন্যতম।

গজারিয়ায় ক্লুলেস কিশোরী হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক কিশোরীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং আদালতে জবানবন্দি নিশ্চিত করার জন্য পিবিআইয়ের তিন কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ দলে এসআই রনি দেবনাথও ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Link copied!