প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
1700
১৩ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উদ্ভূত ‘পুশইন’ সমস্যার সমাধান খুব দ্রুতই হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সীমান্তে পুশইন চেষ্টার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে, তার পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সেখানে এটি একটি বড় নির্বাচনি ইস্যু ছিল। এটি মূলত তাদের একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যার খানিকটা চাপ এই মুহূর্তে আমাদের ওপর এসে পড়ছে।
তবে তিনি এটিকে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি বলেন, *"আমি এভাবে মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা নতুন টেনশন বা উত্তেজনা তৈরির জন্য মূল ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল—এটি তাদের এক ধরনের রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ মাত্র।"*
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশে নতুন যে সরকার এসেছে, তার সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ইতিবাচক কথাবার্তা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁর নিজেরও কিছু আলোচনা হয়েছে。 তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের আমল থেকে শুরু করে দুই দেশের মধ্যে যে ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, ভারত সরকার এখন তা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। দুই দেশের সরকারই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আন্তরিক।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বর্তমানে সীমান্তে যে সংকটটি প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, তার একটি দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। এটি কোনোভাবেই বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি বা সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে intentional বা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে না বলেও তিনি মনে করেন।
ব্রিফিংয়ে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত কমিটি বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আপাতত যে অবস্থান স্পষ্ট করেছে, সেটাই তিনি সবার উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন।
তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এই রোগ বা অসুস্থতা কত সফল ও ভালোভাবে ম্যানেজ (নিয়ন্ত্রণ) করা যায়। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলেই সরকার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করবে।
উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, সরকার কিন্তু তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নাকচ করে দেয়নি। সাংবাদিকদের করা প্রশ্নটিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই খবরের ওপর পুনরায় নজর রাখবেন এবং অগ্রগতি জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।