শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত মোটেই সঠিক হয়নি: শফিকুর রহমান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম

1694

ডা. শফিকুর রহমান

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত মোটেই সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। হাসপাতালটি বন্ধ না করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার এবং জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিরোধীদলীয় নেতা এই মন্তব্য করেন। এর আগে একই দিন (বৃহস্পতিবার) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক চিঠিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কঠোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেছেন, "সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হলে তাঁরা সবাই এ ঘটনায় গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। ঘটনাটি অবশ্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। এটি মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।"

জামায়াতের আমির আরও উল্লেখ করেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো অবহেলা, কারিগরি ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হয়, তবে নির্দিষ্টভাবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু তা না করে যে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে ‘গরিবের হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এবং মানসম্মত ও সাশ্রয়ী সেবার মাধ্যমে জনগণের গভীর আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, তার লাইসেন্স সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হলো। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ও দরিদ্র জনগণেরই অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

মেডিকেল শিক্ষার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান লিখেছেন, "তা ছাড়া এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে সম্ভবত ৪০০ থেকে ৫০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন। পাশাপাশি নার্সিং কোর্সও চালু রয়েছে। এখন তাঁরা যাবেন কোথায়?"

শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও সাধারণ চিকিৎসা প্রত্যাশী জনগণের সামগ্রিক স্বার্থে লাইসেন্স বাতিলের এই সিদ্ধান্তটি সরকারের দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তদন্তে কারও কোনো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক দোষ প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু ঢালাওভাবে লাইসেন্স বাতিল করে একটি ঐতিহ্যবাহী হাসপাতাল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

Link copied!