প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
1694
১৩ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের অধরা স্বপ্ন পূরণের জন্য ব্রাজিলের অপেক্ষাটা কেবলই দীর্ঘায়িত হয়েছে। ২০০২ সালের পর থেকে প্রতি আসরেই ‘সেলেসাওরা’ হেক্সা জয়ের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে, তবে প্রতিবারই নকআউট পর্বের ট্র্যাজেডিতে পুড়তে হয়েছে তাদের। ২০২৬ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে সেই খরা কাটানোর নতুন আশায় বুক বেঁধেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই হাই-প্রোফাইল মিশনে আনচেলত্তির ওপর চাপের পাহাড় রয়েছে বলে মনে করেন দলের এক নম্বর গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। তাঁর মতে, কোচের ওপর এখন ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাজ করছে।
ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামা লিভারপুলের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গণমাধ্যমকে বলেন, “ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচের হটসিটে বসা মানে সম্ভবত দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেয়েও বেশি প্রত্যাশা ও চাপ সামলানো।” তবে ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। ১৯৩৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে টানা ২০টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ড রয়েছে সেলেসাওদের। আজ শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে উত্তর আফ্রিকার ফুটবল পরাশক্তি মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার আগে এই ২০ ম্যাচের মধ্যে ১৭টিতেই জয় পাওয়ার কীর্তি রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকান দলটির।
তবে অতীতের সেই সোনালী আধিপত্য এখন অনেকটাই ফিকে। ২০০২ সালের পর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছরে ব্রাজিল আর কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালেই উঠতে পারেনি। এই সময়ে মাত্র একবার (২০১৪) তারা কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হতে পেরেছিল। ঘরের মাঠে বেলো হরিজন্তেতে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ১-৭ গোলের সেই ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক পরাজয়ের দগদগে ক্ষত এখনও তাড়া করে বেড়ায় ব্রাজিলীয় ফুটবল ভক্তদের।
তবে অতীতের সব ব্যর্থতা ভুলে এবার ইতিহাস বদলাতে চরম আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি বলেন, “আমরা এখানে অতীতের কালো ইতিহাস পুরোপুরি বদলে দিতে এসেছি। ব্রাজিলকে আবার বিশ্বফুটবলের সেই চিরচেনা জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চাই, যেখান থেকে তাদের কখনোই সরে যাওয়া উচিত ছিল না—অর্থাৎ শীর্ষস্থানে। শক্তির বিচারে আমরা টুর্নামেন্টের অন্য যেকোনো বড় দলের সমপর্যায়ে আছি।”
ব্রাজিলের আজকের প্রতিপক্ষ মরক্কো কিন্তু মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। কাতার বিশ্বকাপে রূপকথা তৈরি করে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলার নজিরবিহীন কীর্তি গড়েছিল তারা। এরপর ২০২৩ সালে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচের দেখায় ব্রাজিলকে হারিয়ে দিয়েছিল আশরাফ হাকিমিরা। এ ছাড়া চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজদের সমন্বয়ে গড়া ‘অ্যাটলাস লায়ন্সরা’ বিতর্কিতভাবে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের শিরোপাও জিতেছে। যদিও সেনেগালের সঙ্গে হওয়া সেই ফাইনাল ম্যাচের ফল নিয়ে আইনি বিতর্ক এখনও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (CAS) ঝুলে আছে।
ফিফার বর্তমান সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ষষ্ঠ, আর মরক্কো রয়েছে ঠিক তার পরের অবস্থানে অর্থাৎ সপ্তম স্থানে। শক্তিমত্তার বিচারে দুই দলই সমানে সমান। কেবল মরক্কোই নয়, আধুনিক ফুটবলের কোনো দলকেই ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন সেলেসাও বস কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আধুনিক ফুটবলে এখন আর কোনো ছোট দল নেই। যেকোনো প্রতিপক্ষই যেকোনো বড় দলকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ও কৌশলী।”