শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬

শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের পেট্রোল পাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ১১:২৬ এএম

2029

পেট্রোল পাম্প ও জ্বালানি সংকটের চিত্র

জ্বালানি তেলের ঘাটতি এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন।

রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদেশের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বর্তমানে চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। তেল কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

সংগঠনটির মতে, হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গিয়ে পাম্পে কর্মরতদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং এতে যেকোনো সময় পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক স্থানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

সংগঠনটি দাবি করেছে, স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ জ্বালানি কয়েকদিন বিক্রি হওয়ার কথা, বর্তমানে তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত বিক্রির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি দিনে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে তা বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। একটি জেলায় জ্বালানি সরবরাহের সময় হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে পুরো মজুত তেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতি অন্যান্য পাম্পেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু পাম্পেই নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ট্যাংকার চলাচলের সময় লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ঈদের আগের দিন অনেক পাম্পে জরুরি সেবার জন্য ন্যূনতম জ্বালানিও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নির্ধারিত জ্বালানিও জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ অবস্থায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত না করা হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন পাম্প মালিকরা বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

Link copied!