শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬

শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

2004

অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একইসঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মাথাপিছু আয় বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং স্পোর্টস ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়াতে সরকার কোনো একক খাতের ওপর নির্ভর করছে না। বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেকারত্ব কমানো ও কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ করা এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এসব পরিকল্পনার কিছু অংশ ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি ২০৩৪ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করবে।

Link copied!