প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২২ পিএম
2003
শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুল হক মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে গত ছয় দিনে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের তথ্যের গরমিল ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের **ব্যবস্থাপক জলিল হোসেন (৩০)**কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদার (মনি) নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। ফিলিং স্টেশনটি ডৌহাখলা কলতাপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত। অভিযানের সময় স্থানীয়রা জানান, ফিলিং স্টেশনটির জ্বালানি তেলের হিসাব ও বরাদ্দের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী সার্টিফিকেট কর্মকর্তা আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা নথিভুক্ত করে।
মামলায় বলা হয়েছে, চলতি মাসের ১, ২, ৪, ৬ ও ৭ তারিখে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির প্রাপ্যতা পরীক্ষা করা হয়। কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১, ২ ও ৪ তারিখে ফিলিং স্টেশনটি প্রতি দিন ১৩,৫০০ লিটার করে মোট ৪০,৫০০ লিটার পেট্রল পেয়েছে। ৬ ও ৭ এপ্রিল ৯,০০০ লিটার করে ১৮,০০০ লিটার বরাদ্দ হয়েছে। তবে ব্যবস্থাপক শুধুমাত্র ৩ এপ্রিল ৯,০০০ লিটার পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। এ থেকে বোঝা যায়, ফিলিং স্টেশনটি অবৈধ মজুত বা তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
অভিযানের সময় উপস্থিত জনতা, দোকানি ও মোটরসাইকেল চালকরা জানান, এই মাসে ফিলিং স্টেশনে মাত্র এক দিন পেট্রল বিক্রি হয়েছে। তদারক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ৩ এপ্রিল বরাদ্দ পাওয়া পেট্রল ৪ এপ্রিল বিতরণ করা হয়।
মালিক আজিজুল হক জানান, “ভ্রাম্যমাণ আদালতে ম্যানেজার সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। আদালতের মাধ্যমে সব সত্য উন্মোচিত হবে।”
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, “জ্বালানি তেলের তথ্যের গরমিলের কারণে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।”