প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০১ এএম
18
বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
চাঁদের কক্ষপথে নভোচারীদের ঐতিহাসিক মিশন
ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। মানুষের চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার এই মিশনকে আধুনিক মহাকাশ গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৭ মিনিটে নভোচারীদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে প্যারাশুটের মাধ্যমে সফলভাবে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের বিরতির পর আবারও মানুষ চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরল।
এই মিশনের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের মাধ্যমে শেষবারের মতো মানুষ চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণ করেছিল।
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে এই মহাকাশ মিশন। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।
১০ দিনের এই অভিযানে তারা চাঁদের অদৃশ্য পেছনের অংশ প্রদক্ষিণ করেন এবং গভীর মহাকাশে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। পাশাপাশি তারা চাঁদের পৃষ্ঠের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা সৌরগ্রহণ এবং উল্কাপিণ্ডের আঘাতের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় উচ্চগতির তাপ ও চাপ সহ্য করে ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি নিরাপদে সমুদ্রে অবতরণ করে। অবতরণের আগেই ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রস্তুত রাখা হয় উদ্ধারকারী দল। অবতরণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নভোচারীদের ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’-এর মেডিকেল ইউনিটে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
মিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্য এই মিশনের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে পরবর্তী আর্টেমিস-৪ মিশনের প্রস্তুতিতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এই অভিযানে বেশ কিছু ঐতিহাসিক অর্জনও যুক্ত হয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী নভোচারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম আমেরিকান নাগরিক নয় হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করেছেন।
অভিযান শেষে কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, পুরো যাত্রা ছিল অসাধারণ এবং চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এই ভ্রমণ পৃথিবীর সৌন্দর্য ও বিশেষত্বকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ দিয়েছে।
মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা হিসেবে আর্টেমিস-২ মিশনের এই সফল প্রত্যাবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।