শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬

শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

সংস্কারে ব্যর্থতা: আইএমএফের ঋণের কিস্তি স্থগিত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

2000

বাংলাদেশের রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে। জুন মাসের মধ্যে এই কিস্তি ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও সংস্থাটি এখন নতুন শর্ত যুক্ত করে একটি সংশোধিত ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।

সূত্র জানায়, আইএমএফ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে—রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করার শর্তগুলো এখনো পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় জুনে নির্ধারিত ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে এই কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশের প্রায় ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার পাওনা থাকলেও তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, বিদ্যমান কাঠামোর পরিবর্তে নতুন শর্তে ঋণ প্রদান করতে তারা আগ্রহী। বিশেষ করে সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে সংশোধনী এনে পুরনো মালিকদের ব্যাংকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণে সরকারি বাজেট ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, এ ধরনের ক্ষতিপূরণ ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিমের মাধ্যমে দেওয়া অধিক যৌক্তিক।

এদিকে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিধি দল।

আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় এখনই বড় ধরনের সংস্কার বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময়। তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছরে দেশের রাজস্ব আদায়ের হার নিম্নমুখী হয়েছে।

অন্যদিকে, অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন—সংস্কার কার্যক্রমে গতি না থাকলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—হয় শর্তগুলো পূরণ করতে হবে, নয়তো বর্তমান চুক্তি থেকে সরে আসতে হবে।

এছাড়া অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ সতর্ক করে বলেন, ঋণের পুরো অর্থ উত্তোলন সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Link copied!