প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
2002
শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
দেশের পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদিও যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা ইতিবাচক ধারা দেখা গিয়েছিল, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না—এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দর কমার কারণে বাজার মূলধনে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকার বেশি।
সূচকের চিত্র
গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২৫৭ পয়েন্টে। অন্যদিকে, ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ কমে ১২ পয়েন্ট নেমে হয়েছে ১,৯৯০ পয়েন্ট। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
বাজার মূলধন ও লেনদেন
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
অন্যদিকে, লেনদেনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৮১৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৬৭০ কোটি টাকা থেকে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
কোম্পানিভিত্তিক পারফরম্যান্স
ডিএসইতে আলোচ্য সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ড লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২১৩টির শেয়ার দর বেড়েছে, ১৪২টির কমেছে এবং ৩৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া ২২টি কোম্পানির কোনো লেনদেন হয়নি।
সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
খাতভিত্তিক লেনদেন
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকৌশল খাত লেনদেনে শীর্ষে অবস্থান করেছে, যা মোট লেনদেনের ১৭.২ শতাংশ দখল করে। এরপর ওষুধ ও রসায়ন খাত ১১.৬ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাত ১০.৩ শতাংশ, বস্ত্র খাত ৯.১ শতাংশ এবং ব্যাংক খাত ৯ শতাংশ লেনদেন করেছে।
খাতভিত্তিক রিটার্ন
গত সপ্তাহে সিরামিক খাতে সর্বোচ্চ ৪.৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩.৯ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাতে ৩.৪ শতাংশ রিটার্ন লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে, ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ১.৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন হয়েছে। পাশাপাশি পাট, সেবা ও আবাসন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাগজ ও মুদ্রণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং জীবন বীমা খাতেও দরপতন হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের মনোভাব
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও তা স্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ এবং ভালো লভ্যাংশের প্রত্যাশা বাজারে কিছুটা গতি আনলেও, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।
বড় মূলধনি শেয়ারে বিক্রির চাপ এবং প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে থাকায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়নি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চিত্র
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,৭৬২ পয়েন্টে। তবে সিএসসিএক্স সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ৯,০৪০ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট ১৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ২৪৩ কোটি টাকা থেকে কম। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৯৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৪৭টির দর বেড়েছে, ১২১টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।