প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
2003
রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া তাদের স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহর সঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-গৌজ-এর এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। অতীতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী লিবিয়ার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
বর্তমানেও অনেক বাংলাদেশি পেশাজীবী লিবিয়ার স্বাস্থ্য খাতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা অনিয়মিত থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন, যা লিবিয়ার জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
রাষ্ট্রদূত বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত করায় লিবিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এখনো কিছু পেশাজীবীর বেতন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এছাড়া, দেশে ফিরে আসা এবং বর্তমানে কর্মরত সকল বাংলাদেশি পেশাজীবীর বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী চুক্তি নবায়ন, চুক্তিভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-গৌজ বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন। তিনি বেতন প্রদানে বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাসিক বেতন নিয়মিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বৈঠকের শেষে উভয় দেশ স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়। এই উদ্যোগকে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।