প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
1695
২৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে ব্রাজিল। একইসঙ্গে ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে দেশটি। এ সমর্থনের ফলে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ব্রাজিলের রাজধানীতে অবস্থিত পালাসিও দো প্লানালতোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন সেলসো আমোরিম।
আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে সাইপ্রাস। ইতোমধ্যে ব্রাজিলের পাশাপাশি আলজেরিয়াও বাংলাদেশের প্রার্থিতায় সমর্থন জানিয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ ও কৌশলগত সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন সেলসো আমোরিম। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ জানায়, বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে সেলসো আমোরিম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকা, বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় নেতৃত্বের সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবেই ব্রাজিল এই সমর্থন দিচ্ছে।
ব্রাজিল সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান বিশ্ব যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতার মতো নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রাজিল থেকে তুলা, চিনি, সয়াবিন ও কৃষিপণ্য আমদানি করছে। অন্যদিকে ব্রাজিলের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও সিরামিক রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সরাসরি শিপিং সংযোগ চালু এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া কৃষি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, জ্বালানি ও উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা, ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।
এদিকে ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ পাওয়ার আগ্রহের বিষয়ে সেলসো আমোরিম জানান, বিষয়টি প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) ঢাকায় একটি শাখা স্থাপনের আহ্বানও জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ এনডিবির সদস্য হলেও দেশে ব্যাংকটির শাখা না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।