প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
1693
২৫ মে ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তাবাহিনীর গোয়েন্দাভিত্তিক যৌথ অভিযানে অন্তত ৩৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনজন শীর্ষ কমান্ডারকে জীবিত আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক প্রশাসন।
রোববার দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে বেলুচিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোয়েটার উপকণ্ঠের পাহাড়ি এলাকা মাঙ্গলা জারগুন গারে গত ১৩ মে থেকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়। কয়েক দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন আস্তানা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একাধিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তিনজন কমান্ডারকে আটক করা হয়। তবে নিহত ব্যক্তিরা কোন সংগঠনের সদস্য, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সম্প্রতি বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষ করে কোয়েটা শহর ও আশপাশের এলাকায় রকেট হামলা এবং নাশকতার ঘটনার পর গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, পার্বত্য অঞ্চলগুলো থেকেই এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছিল।
এর আগে মাসতুং জেলার শেখ ওয়াসিল এলাকায় একটি সেতু ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। এতে কোয়েটা-তাফতান মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে ইরান থেকে আসা কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো বেলুচিস্তান প্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। নতুন নির্দেশনায় অস্ত্র বহন ও প্রকাশ্যে প্রদর্শন, মোটরসাইকেলে দুইজন যাত্রী বহন, গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহার, নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল চালানো এবং পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জনসমক্ষে মুখ ঢেকে চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বেলুচিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক সহকারী বাবর ইউসুফজাই জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অন্যতম অস্থিতিশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, জঙ্গি হামলা এবং সীমান্তসংক্রান্ত নিরাপত্তা সংকটের কারণে অঞ্চলটিতে প্রায়ই সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।