প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ১২:০০ পিএম
1694
২৫ মে ২০২৬, ০৭:০৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ‘গ্রিনকার্ড’ পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে জো বাইডেন-পরবর্তী ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রিনকার্ডের আবেদনের জন্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার প্রয়োজন নেই। নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের মার্কিন দূতাবাসের (কনস্যুলার প্রক্রিয়া) মাধ্যমেই তাদের এই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নতুন নিয়মের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)।
বিবৃতিতে ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করে বলেছে, "যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে চান, তারা যেন অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করে কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। দেশের বিদ্যমান অভিবাসন আইন এবং অভিবাসন আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংগতি রেখেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" এই প্রক্রিয়ায় কোনো আবেদনকারী গ্রিনকার্ড পাওয়ার যোগ্য কিনা, তা নির্ধারণ করতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রতিটি কেস আলাদাভাবে এবং সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়মের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অসাধারণ প্রতিকার ব্যবস্থা’ (এক্সট্রা-অর্ডিনারি ফর্ম অব রিলিফ)।
সাধারণত প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী, পর্যটক, দর্শনার্থী ও চাকরিজীবী অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এই অস্থায়ী ভিসাধারীদের একটি বড় অংশের মূল লক্ষ্য থাকে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন বা গ্রিনকার্ড অর্জন করা। এতদিন পর্যন্ত এই বিদেশি নাগরিকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই বৈধ উপায়ে গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করতে পারতেন। ‘অবস্থার সমন্বয়’ বা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ নামে পরিচিত এই আইনি প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে বেশ সহজলভ্য ও বহুল ব্যবহৃত ছিল। কিন্তু নতুন নিয়ম চালুর পর থেকে গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা আর জরুরি নয়, বরং তাদের নিজ দেশে ফিরে অস্থায়ী ভিসার নথি প্রদর্শন করে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের সংখ্যা কমিয়ে আনা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন ইস্যুতে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। গত দেড় বছরে দেশজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ নথিবিহীন (অবৈধ) অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে বিশেষ বন্দিশালায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্তত ৭০টি দেশের ওপর বিভিন্ন মেয়াদে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ ভিসা দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। গ্রিনকার্ডের এই নতুন নিয়ম মার্কিন অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।