প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ এএম
1685
২৫ মে ২০২৬, ০৭:০৩ এএম
ইরানের ড্রোন হামলার ঝুঁকি থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে তেল ডিপোগুলোর ওপর লোহার খাঁচা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে, ডিপোগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট নকশায় লোহার খাঁচা বসানো হচ্ছে, যাতে ড্রোন সরাসরি আঘাত করতে না পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুর দিকেই আমিরাত ইরানে সরাসরি হামলা চালায়। একইসঙ্গে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের উপস্থিতি এবং তাদের ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমিরাতে মোতায়েন করায় তেহরান চরম ক্ষুব্ধ হয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান আমিরাতের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র ও ডিপো লক্ষ্য করে ছোট আকৃতির ড্রোন হামলা শুরু করে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফর সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে আমিরাতের ওপর ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালানো হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতির বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে তেল ও গ্যাস খাত। দেশটিতে মোট জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ আসে তেল ও গ্যাস থেকে এবং ১৩ শতাংশ আসে রপ্তানি থেকে। জ্বালানি অবকাঠামোর এই নিরাপত্তা ঝুঁকি আমিরাতের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ড্রোন হামলা ঠেকাতে অনেকটা প্রতিরক্ষা কবচ হিসেবেই এই লোহার খাঁচা নির্মাণের পথ বেছে নিয়েছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি অবকাঠামোগত সুরক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ ইরান-আমিরাত ক্রমবর্ধমান উত্তেজনারই প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই ছায়া যুদ্ধ এখন জ্বালানি সম্পদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সূত্র: এনডিটিভি