সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম

সোমবার শুরু হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

1695

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন ও পরম পবিত্র ইবাদত হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌদি আরবে সমবেত হওয়া লাখ লাখ লাখ হজযাত্রী আজ রোববার (২৪ মে) রাতেই তাঁবুর শহর মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। আগামীকাল সোমবার (৮ জিলহজ) পবিত্র মিনার পবিত্র ভূমিতে অবস্থানের মধ্য দিয়ে মূলত চলতি বছরের হজের মূল কার্যক্রম শুরু হবে। আজ রোববার বিকেলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সৌদি সরকারের দেওয়া কঠোর ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে হজযাত্রীদের মিনায় গমন সহজ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে আজ রাত থেকেই তাদের মিনায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

মক্কাস্থ বাংলাদেশ সরকারি হজ অফিস ও দেশের সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো ইতোমধ্যে সব ধরনের লজিস্টিক সহযোগিতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মিনায় পাঠানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইসলামি শরিয়তের পবিত্র বিধান অনুসারে, হজযাত্রীরা আগামীকাল ৮ জিলহজ সারাদিন ও রাত মিনায় অবস্থান করবেন এবং সেখানে অবস্থানকালেই ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করবেন। মিনায় এই রাত যাপন শেষে পরদিন ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার, ২৬ মে) ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কাঙ্ক্ষিত হজের প্রধান রোকন আদায়ের লক্ষ্যে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

চলতি বছর ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে বিশ্ব মুসলিমের উদ্দেশ্যে হজের মহাসম্মানিত খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও প্রখ্যাত খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। হজের এই বিশেষ খুতবা শ্রবণ শেষে হাজিরা একই সাথে পবিত্র জোহর ও আসরের নামাজ কসর ও জমা করে আদায় করবেন। এরপর তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও গুনাহ মাফের জন্য মোনাজাতে মশগুল থাকবেন। শরিয়তের অকাট্য বিধানানুসারে, জিলহজের এই ৯ তারিখে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হলো হজের মূল বা প্রধান রোকন।

এরপর ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে পৌঁছে তারা একই সাথে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন এবং সম্পূর্ণ উন্মুক্ত আকাশের নিচে খোলা মাঠে রাত্রিযাপন করবেন। এখান থেকেই হাজিরা শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর (পাথর) সংগ্রহ করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ (বুধবার, ২৭ মে) সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে পুনরায় মিনায় ফিরে যাবেন হাজিরা এবং সেখানে গিয়ে শুধু ‘বড় জামারায়’ (শয়তানের বড় স্তম্ভে) কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। কঙ্কর নিক্ষেপ শেষে তারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেবেন এবং পুরুষ হাজিরা মাথা মুণ্ডন করবেন বা চুল ছোট করবেন, নারীরা তাদের চুলের অগ্রভাগ সামান্য কেটে ইহরামের কাপড় পরিবর্তন বা হালাল হবেন। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে বাকি তিনটি জামারায় নিয়ম অনুযায়ী কঙ্কর নিক্ষেপ শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ পালন করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ পবিত্র হজ পালন করছেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ হাজিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের আধুনিক ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

Link copied!