শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দখল: ফের গড়ে উঠছে শত শত দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

1706

বালিয়াড়ি এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী ও আশপাশের বালিয়াড়ি এলাকায় আবারও অবৈধভাবে দোকানপাট ও অস্থায়ী রেস্তোরাঁ নির্মাণের প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে বালিয়াড়ি দখল করে নতুন করে শত শত দোকান স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত কয়েক দিনের মধ্যে অন্তত চার শতাধিক দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রশাসনের উদ্যোগে সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। ওই অভিযানে শত শত দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ফিরে আসায় পর্যটকদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দেয়।

তবে ঈদের ছুটির সময়কে কেন্দ্র করে পুনরায় বালিয়াড়ি দখলের ঘটনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে সুগন্ধা, কলাতলী ও সিগাল পয়েন্টসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকানপাট বসানো হয়েছে। এসব দোকানে শামুক-ঝিনুকের তৈরি পণ্য, পোশাক, রোদচশমা, প্রসাধনী, আচার, চা-কফি, ভাজাপোড়া খাবারসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে।

পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকান ভ্যানগাড়ির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। নিচে চাকা সংযুক্ত থাকায় প্রয়োজন হলে দ্রুত স্থান পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্ছেদ অভিযানের আশঙ্কা থেকেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত। এ ধরনের এলাকায় বালিয়াড়ির ওপর স্থাপনা নির্মাণ পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিদ্যমান নীতিমালার পরিপন্থী।

পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র বারবার বালিয়াড়ি দখল করে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সৈকতের প্রবেশমুখে গড়ে ওঠা এসব অস্থায়ী স্থাপনা অনেক সময় সৌন্দর্যহানি এবং অব্যবস্থাপনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সৈকত এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মী জানান, ঈদের আগের রাত থেকেই নতুন করে দোকান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব দোকানে বেচাকেনা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগান উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব এলাকা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। বর্তমানে এ বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, কক্সবাজারে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে আসেন। সৈকতের উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ স্থাপনা পুনরায় গড়ে ওঠায় সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক পর্যটক অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন সম্ভাবনা রক্ষায় বালিয়াড়ি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

Link copied!