প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম
1694
১৬ জুন ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
জাতীয় সংসদের পবিত্র অধিবেশনে মুসলিম নারীদের অন্যতম ধর্মীয় পোশাক বোরকা ও হিজাব নিয়ে এক সংসদ সদস্য কর্তৃক অবমাননাকর ও বিদ্রূপাত্মক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ ক্ষুব্ধ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এই তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে হেফাজতের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত দাবিদার একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যের মুখ থেকে ইসলামের একটি পবিত্র ফরজ বিধান ও নারীদের শালীন পোশাক নিয়ে এ ধরনের চরম বিদ্রূপাত্মক, কুরুচিপূর্ণ এবং অশোভন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু দুঃখজনকই নয়; বরং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গভীর ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ঠিক কোন জঘন্য পর্যায়ে পৌঁছালে দেশের আইনসভায় দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্য হয়ে কোটি কোটি মুসলিম নারীর ধর্মীয় পোশাককে উপহাসের বিষয়ে পরিণত করতে পারেন, তা ভাবতেও ঘৃণা হয়। এ ধরনের আচরণ সভ্য ও শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মুখে চুনকালি দেওয়ার শামিল।’
তাঁরা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বোরকা ও হিজাব পরিধান করা মুসলিম নারীদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় মৌলিক অধিকারের অংশ। ইসলামের এই অকাট্য বিধান নিয়ে যেকোনো ধরনের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও তামাশা করা দেশের কোটি কোটি তৌহিদি জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। ৯২ ভাগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে ইসলামের চেতনা ও সংস্কৃতির ওপর কোনো ধরনের আঘাত মোটেও বরদাশত করা হবে না।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠান। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন ইসলামবিদ্বেষী, আপত্তিকর ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে সাধারণ জনগণের কাছে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি, আদর্শ ও জনস্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রেখে ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করে বিষোদগার করা বিকৃত মানসিকতারই স্পষ্ট প্রমাণ। দেশের মহান সংসদকে কোনো নির্দিষ্ট মহলের ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নের আখড়া বানাতে দেওয়া যাবে না।’
বিবৃতিতে হেফাজতের আমীর ও মহাসচিব অনতিবিলম্বে ওই সংসদ সদস্যকে তাঁর আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায়, দেশের তৌহিদী জনতা ঈমান ও আমলের সুরক্ষায় রাজপথে নেমে এসে কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সব স্তরে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তাঁরা।