প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
1695
১৬ জুন ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় সামান্য চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে একজনকে আটক করেছে।
গতকাল সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর ও আরিছপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে দুই দফায় এই বর্বরোচিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, দুই গ্রামের মধ্যবর্তী একটি পুরোনো কবরস্থানের পাশের চলাচলের সাধারণ রাস্তা নিয়ে আদিত্যপুর ও আরিছপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল। এর জেরে গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উভয় পক্ষের ২০০ থেকে ২৫০ জন লোক দেশীয় বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র, টেঁটা, রামদা, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রথম দফার উত্তেজনা প্রশমিত হলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় ডুবাই বাজারে উভয় পক্ষ নতুন করে ফের মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
উভয় পক্ষের দুই দফার এই হিংস্র সংঘর্ষে আদিত্যপুর গ্রামের সেলু মিয়া (৫৩) ও হেলাল মিয়া (৩৭) গুরুতরভাবে আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় সেলু মিয়াকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত হেলাল মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেককে বাহুবল ও হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুপুরের প্রথম দফার সংঘর্ষের পর পুলিশ দ্রুত অ্যাকশনে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের মুরুব্বিদের থানায় এসে বসার ও বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা ছিল। কিন্তু তারা থানায় না এসে পরবর্তীতে আবার স্থানীয় বাজারে সংঘর্ষের লিপ্ত হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।’