প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
1694
১৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতাদের সাথে কথা বলে বাজারের দ্রব্যমূল্যের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম
দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আদা, রসুন ও পেঁয়াজসহ বেশ কয়েকটি অতি-প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ বিক্রেতারা। তবে খুচরা বাজারে পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে মত দিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার আকস্মিক পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের এ সব তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
বাজার পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বাজারের পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ের বিক্রেতাদের সঙ্গে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, পাইকারি ক্রয়মূল্য ও খুচরা বিপণন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন এবং সার্বিক বাজার দর ও মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত ও অভিযোগ শোনেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশেই এই বাজার মনিটরিং বা তদারকি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘গতকাল আমরা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কারওয়ান বাজার পরিদর্শন করেছি, সেখানকার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আজকেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাবাজার পরিদর্শন করে ভোক্তাদের মাঝে তুলনামূলক সন্তুষ্টির চিত্র দেখতে পেয়েছি। বর্তমান সরকার যেহেতু সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনা করছে, তাই জনগণের সন্তুষ্টি ও স্বস্তির প্রতি আমাদের সব সময় সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি থাকবে।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই লাভ করতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা দাম বাড়িয়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর কোনোভাবেই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। সাধারণ ভোক্তাদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এই কঠোর তদারকি ও বিশেষ উদ্যোগ সর্বদা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, বাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বর্তমানে স্বস্তিদায়ক ও স্থিতিশীল রয়েছে। এ সময় বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতারা প্রতিমন্ত্রীকে জানান যে, আড়ত ও মোকামে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ও দেশীয় ফলন ভালো হওয়ায় আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম আগের চেয়ে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে বাজার ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমাতে প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিদিনের হালনাগাদ ‘মূল্য তালিকা’ টানিয়ে রাখার কঠোর নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রীর এই বাজার পরিদর্শনকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডলসহ বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে প্রশাসনের এমন নিয়মিত আকস্মিক তদারকি ও সরবরাহ চেইন ব্যবস্থা সচল থাকলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে তা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।