প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
1699
১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
আমের বাজার ঘুরে দেখছেন আমেরিকান রাষ্ট্রদূত
উত্তরাঞ্চলের সুস্বাদু ফলের রাজধানী খ্যাত রাজশাহীর অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী আমের বাজার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন (ইউএস) রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বিশ্বখ্যাত এই আমের বাজার প্রাঙ্গণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বানেশ্বর হাটে এসে পৌঁছান। তিনি হাটের বিভিন্ন বড় বড় আমের আড়ত এবং খুচরা দোকানগুলো পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান ও পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বার্নার্ডসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাজার পরিদর্শনকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাটে কেনাবেচা হওয়া ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতসহ বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আম সম্পর্কে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে খোঁজখবর নেন। তিনি সরাসরি স্থানীয় আমচাষি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং পদ্মার চরে উৎপাদিত রাসায়নিকমুক্ত সুস্বাদু আমের আসল স্বাদ নিজে গ্রহণ করে চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই আকস্মিক ও অভাবনীয় সফরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও উদ্বুদ্ধ। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহীর আম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় পরিসরে পরিচিতি ও ব্র্যান্ডিং পাবে বলে তারা জোরালো আশা প্রকাশ করেন। হাটে আসা স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, রাজশাহীর আমের অনন্য গুণগত মান ও মিষ্টি স্বাদ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বিদেশি কূটনীতিকদের এমন বাস্তবসম্মত পরিদর্শন দেশের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
হাট পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উচ্ছ্বসিত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজশাহীতে এটিই আমার প্রথম সফর। এর আগে বিগত ২০২০ সালে ব্যক্তিগতভাবে একবার এখানে এসেছিলাম, তবে এবার বিশেষভাবে আমের ভরা মৌসুমে এসেছি; কারণ আমি রাজশাহীর আমের একদম তাজা ও আসল স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে এবং মানুষের আতিথেয়তায় আমি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত।’
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘আমি নিজে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান কৃষিনির্ভর অঙ্গরাজ্য থেকে বড় হয়েছি। তাই কৃষিপণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সরাসরি সেই জমিতে বা স্থানীয় উৎসে যাওয়ার চেয়ে সেরা অভিজ্ঞতা একজন মানুষের আর হতে পারে না। কারণ সেখানে সবচেয়ে তাজা, বৈচিত্র্যময় এবং সেরা জিনিসটি সরাসরি দেখার ও পরখ করার দারুণ সুযোগ পাওয়া যায়। এই অনন্য অভিজ্ঞতার কোনো তুলনা হয় না।’
আমের স্বাদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা ফল হিসেবে আম খেতে খুবই পছন্দ করে। যদিও আমাদের দেশে সাধারণত আমগুলো প্রক্রিয়াজাত বা হিমায়িত (ফ্রোজেন) অবস্থায় পাওয়া যায় এবং আমরা মূলত ম্যাঙ্গো শেক তৈরিতে সেগুলো বেশি ব্যবহার করি। যুক্তরাষ্ট্রেও কিছু আম পাওয়া যায়, তবে আমার মনে হয় না সেখানকার আম এখানকার মতো এত তাজা, সুমিষ্ট এবং সুস্বাদু।’
বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়াতে কোল্ড চেইন (Cold Chain) উন্নত করার তাগিদ দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বৈশ্বিক বাজারে পা রাখতে বাংলাদেশের আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিগত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সারা বছর আমের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হিমায়িত আম রপ্তানির জন্য এটিই সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম। তাই বছরজুড়ে আমের উন্নত বাণিজ্যিক উৎপাদন সচল রাখতে এবং বিশ্ববাজারে রপ্তানির গ্রাফ বাড়াতে বাংলাদেশকে এই কোল্ড চেইন ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন করতে হবে।’