সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইজিপি টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

1696

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের রোগীদের পথ্য (খাবার) সরবরাহের ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ইজিপি (অনলাইন দরপত্র) টেন্ডার মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত কার্যাদেশ প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং পুনরায় টেন্ডার মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে গতকাল রোববার (১৪ জুন) টেন্ডারে অংশ নেওয়া ‘মেসার্স হিমেল ন্যাশনাল’-এর স্বত্বাধিকারী রিসাব হোসেন কেতাব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ও ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য পুষ্টিকর পথ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়। উক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় মেসার্স হিমেল ন্যাশনালসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের মোট ৬টি বিশিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মেসার্স হিমেল ন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রিসাব হোসেন কেতাব আইনগতভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা (লোয়েস্ট বিডার) হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এবং অদৃশ্য স্বার্থের জেরে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ প্রদান না করে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার।

ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হিমেল ন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রিসাব হোসেন কেতাব ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সরকারের ইজিপি পোর্টালের সমস্ত নিয়ম-কানুন এবং শর্তাবলী নিখুঁতভাবে মেনে এই টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলাম। প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নে আমি সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও আমাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই কার্যাদেশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমার চেয়ে অনেক বেশি দরপ্রস্তাব করা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স উদয় এন্টারপ্রাইজ’কে মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত, অবৈধ এবং স্বজনপ্রীতিমূলক। আমি এই জালিয়াতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক প্রতিকার চেয়েই লিখিত অভিযোগ করেছি। প্রয়োজনে আমি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।”

টেন্ডারে অনিয়ম ও কারচুপির এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূচনা মনোয়ারা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, “ডিজিটাল টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এখন আর সর্বনিম্ন দরদাতা হলেই কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে যাবে— এমন কোনো গ্যারান্টি বা বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। ইজিপি সফটওয়্যার বা অনলাইন পোর্টালটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আগের কাজের অভিজ্ঞতা, আর্থিক সচ্ছলতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সার্বিক মূল্যায়ন শেষে অটোমেটিকভাবে (স্বয়ংক্রিয় উপায়ে) যাকে প্রথম বা যোগ্য হিসেবে নির্বাচন করবে, তাকেই কার্যাদেশ দেওয়া হবে। এখানে আমাদের ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।”

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন অন্যান্য সাধারণ ঠিকাদাররা। তাদের দাবি, পর্দার আড়ালে টেকনিক্যাল মূল্যায়নে কারচুপি করেই এই অনিয়ম করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ইজিপি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য রাজশাহীর সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Link copied!