প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
1688
১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের চরম অপেশাদার আচরণ ও ‘রহস্যজনক’ বাধার মুখে নিজের পূর্বনির্ধারিত দিল্লি সফর সম্পূর্ণ বাতিল করে ঢাকায় ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
কূটনৈতিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের’ (IORA) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান বা দলনেতা হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল উপদেষ্টার। সেই উদ্দেশ্যে তিনি গতকাল রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় বিমানযোগে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ কূটনৈতিক পত্র (নোট ভারবাল) দিয়ে তাঁর এই অতিগুরুত্বপূর্ণ সফরের বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনেক আগেই আগাম অবহিত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও রহস্যজনক কারণে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে বিমানবন্দরেই আটকে দেয় এবং দিল্লিতে প্রবেশে দীর্ঘক্ষণ বাধা সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হলে এবং ভারতের সরকারের উচ্চ মহলের বিশেষ নির্দেশে প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এমন অযাচিত ও অবমাননাকর আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান নিজে থেকেই আর দিল্লিতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিমানবন্দরে বসেই ট্রানজিট নিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং আজ সকালে দেশে ফিরে আসেন।
ভারতের মতো একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন শীর্ষ উপদেষ্টাকে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে এসে এভাবে ইমিগ্রেশনে হেনস্থার শিকার হওয়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার পর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।