প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
1690
১৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত বিভাগ’ বা হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের বৈশ্বিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিউইয়র্কের উদ্দেশে তাঁর ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আজ সোমবার নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১৭ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এই বিশেষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বমঞ্চের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ। সম্মেলনে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের প্রধান বা দলনেতা হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো মানবিক বিপর্যয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে আগামীকাল সকালেই নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রতিমন্ত্রী। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সেগমেন্টে অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আগামী ২০ জুন নিউইয়র্ক থেকে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত বিভাগের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত স্পেনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও সিনিয়র রাষ্ট্রদূত হেক্টর গোমেজ এবারের এই বৈশ্বিক সেগমেন্টে মূল সভাপতি বা চেয়ারের দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল-এর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট হলো—বিশ্বব্যাপী চলমান বিভিন্ন মানবিক সংকট মোকাবিলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যুদ্ধবিদ্ধস্ত অঞ্চলের পুনর্বাসন এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তার কার্যকর সমন্বয় সাধনের জন্য পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ও সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। প্রতি বছর জাতিসংঘের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং বিশ্বের দাতা দেশগুলোকে একত্রিত করে একটি সর্বসম্মত আন্তর্জাতিক মানবিক প্রস্তাব (হিউম্যানিটারিয়ান রেজুলেশন) গ্রহণ করা হয় এই সেগমেন্টে।
এবারের অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ও জটিল মানবিক জরুরি অবস্থাগুলো যৌথভাবে মোকাবিলায় সম্মিলিত বৈশ্বিক সাড়াদান, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর জলবায়ু সংকটের মারাত্মক মানবিক প্রভাবের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং এসব বিষয়ে বৈশ্বিক নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বিভিন্ন সদস্য দেশের মন্ত্রী ও কূটনীতিক ছাড়াও বৈশ্বিক মানবিক সাহায্য প্রদানকারী শীর্ষ সংস্থা, স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (আইএনজিও), বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ এবং সরাসরি জলবায়ু ও যুদ্ধ সংকট-কবলিত প্রান্তিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই ফোরামে জলবায়ু অভিবাসী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক তহবিলের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে বলে জানা গেছে।