প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
1693
১৬ জুন ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্য দিবালোকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫) নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অবশেষে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাউজান থানায় এই হত্যা মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া ৫ জন দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারীসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে নিহত যুবদল নেতার ভাই ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়াত হোসেন মামলার বিষয়টি আজ সকালে নিশ্চিত করে জানান যে, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় (পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও সাধারণ অভিপ্রায়) মামলাটি যথাযথভাবে রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের ‘আশরাফিয়া ফার্মেসি’ নামের একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রধারীরা গুলি করে হত্যা করে। নিহত মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সেই সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে ৫ জন মূল অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের ভাইয়ের দেওয়া লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে আমরা সব আসামিকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছি। ঘটনার পরপরই আমাদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যতম সন্দেহভাজন মুহাম্মদ জাকের মিয়াকেও এই মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও সিসিটিভি ফুটেজে থাকা বাকি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।’