বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬

বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সৌদি-বাহরাইন সংযোগ সেতু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

8

সৌদি আরব বাহরাইন সংযোগ সেতু বন্ধ

ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও বাহরাইনের মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতু ‘বাদশা ফাহাদ কসওয়ে’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে আপাতত এই সেতুতে সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত থাকবে।

প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলকে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে একমাত্র স্থল যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেতুটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

এর জবাবে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তা শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব শুধু সৌদি আরব ও বাহরাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থায় এমন সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সামরিক উদ্যোগ নেওয়া হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশও এতে যুক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Link copied!