প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
19
বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
তামিম ইকবাল
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সংগঠক হিসেবে টি-টোয়েন্টি খেলতে এসেছিলেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে তিনি টি-টোয়েন্টি খেলতে এসে শুরু করেছিলেন টেস্ট খেলা। কিন্তু ম্যাচের অর্ধেক পথেই অলআউট হয়ে গেল বুলবুলের দল (বোর্ড)। ভেঙে দেওয়া হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কমিটি। সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান। বিসিবির সবশেষ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে গত ১১ মার্চ সাবেক এক বিচারপতিকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এনএসসি। গত ৫ এপ্রিল তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়ার আগেই বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের ২৫ পরিচালকের মধ্যে পদত্যাগ করেন ৭ জন। আর তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার দুই দিনের মাথায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। কাল সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা জানানোর আগে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান। আগের নির্বাচনে কোথায় কোথায় অনিয়ম হয়েছে তা তুলে ধরেন। সেজন্য কারা দায়ী তাও উল্লেখ করেন। এনএসসির পরিচালক আশা করেন আইসিসি নতুন এডহক কমিটি মেনে নেবে। সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান জানান তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের পর নির্বাচনের আয়োজন করবে অ্যাডহক কমিটি। আর নির্বাচনের পর নির্বাচিত কমিটিই চালাবে বিসিবির সকল কর্মকাণ্ড।
ক্রিকেট বোর্ড স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে না পারলে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ে দল। তবে বিসিবির সবশেষ পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা ইতোমধ্যে আইসিসিকে ইমেইলে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন এনএসসির পরিচালক আমিনুল এহসান। তিনি জানান, অ্যাডহক কমিটির নামও বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। আমিনুল এহসান বলেন,‘বিসিবির নির্বাচন নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ। এটি আইসিসিকে জানানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১৮ সালের আইন মোতাবেক আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে।’ যেসব অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হলো বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ তাও বিস্তারিত জানিয়েছেন আমিনুল এহসান। সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পড়ে শোনান তিনি। সবশেষে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির নাম ঘোষণা করেন এনএসসির এই পরিচালক। যেখানে সভাপতি তামিম ইকবাল ছাড়াও সদস্য হিসেবে আছেন যথাক্রমে- ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান মির্জা ইস্পাহানী, রফিকুল ইসলাম বাবু ও ফাহিম সিনহা। এদের মধ্যে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বিএনপির সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের স্ত্রী, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ ও ইসরাফিল খসরু যথাক্রমে বিএনপির উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদের পুত্র। অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে কাল সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে
সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে এসেছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। এতে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ই-ভোটিং নিয়ে কারচুপির অভিযোগ
তদন্ত কমিটি আরও জানিয়েছে, নির্বাচনে ব্যবহৃত ই-ভোটিং পদ্ধতিতে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়নি এবং তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক কাউন্সিলরকে রাজধানীর একটি হোটেলে একত্রিত করে ই-ভোট দিতে উৎসাহিত বা প্রভাবিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিটির মতে, এতে ভোটের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতাক্ষুন্ন হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন হয়েছে।
বুলবুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
প্রতিবেদনে বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি এককভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে বিসিবির সংবিধান অনুযায়ী সভাপতি এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। এতে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।