প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
1694
০৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
কর্মস্থলে নিজের ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্য জনসমক্ষে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং চরম শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করার অভিযোগে কাস্টমস বিভাগের আলোচিত রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৪ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আজ শনিবার (৬ জুন) এনবিআর সূত্রে এই বরখাস্তের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বরখাস্ত হওয়া সিরাজুল ইসলাম এনবিআরের কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা দক্ষিণে রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যানের সই করা ওই অফিস আদেশে বলা হয়, কর্মস্থলে নিজের দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া এবং সিভিল সার্ভিস বিধিমালা লঙ্ঘন করে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিভাগীয় মামলা ও আইনি কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই সিদ্ধান্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী মো. সিরাজুল ইসলামকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করার পাশাপাশি সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে আরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ওই কর্মকর্তা কাস্টমস বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিজের সরাসরি দুর্নীতি ও ঘুষ সংশ্লিষ্ট বেআইনি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রকাশ্যে জনসমক্ষে ও ক্যামেরার সামনে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে চরম শিষ্টাচারবহির্ভূত কথাবার্তা বলেছেন। সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে তাঁর এই ধৃষ্টতা ও আচরণ সমগ্র রাজস্ব প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এসব গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক ও ইউটিউব) একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়), যেখানে কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামকে অত্যন্ত সাবলীলভাবে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে সগর্বে মন্তব্য করতে দেখা যায়। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তিনি নির্লজ্জভাবে দাবি করেন, "আমি ঘুষ বা স্পিড মানি নেই, এটা সত্য; তবে আমি কাউকে জোর করি না বা বাধ্য করি না। কেউ খুশি হয়ে বা স্বেচ্ছায় যা এনে দেন, আমি কেবল সেটাই গ্রহণ করি।"
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং রাজস্ব প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চ মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তীতে ভিডিওটি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ বা প্ল্যাটফর্ম থেকে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে ফেলা হলেও বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত থাকে। এ ছাড়া এনবিআরের এই কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ পন্থায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার বিপুল সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।