শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম

লোকগবেষণা পরিষদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক সম্মিলন 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম

1702

লোকগবেষণা পরিষদ তথ্যলিপি’ ভলিউম-১ এর মোড়ক উন্মোচন

বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মিলন এবং ‘বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ তথ্যলিপি’ ভলিউম-১ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান ৫ জুন ২০২৬ রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার। পরে সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

Lokosangathon.jpg
 অনুষ্ঠানে দর্শক শ্রেতাদের একাংশ

বঙ্গ রাখালের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকদের অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং পরামর্শ প্রদান পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে বক্তব্য দেন আব্দুল্লাহ আল আমীন, শিকদার ওয়ালিউজ্জামান, কমল হাসান, সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ জাহিদ হাসান, মেহাইমিনুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মো. মসিউর রহমান, সুধান্য মণ্ডল, আবুল বাশার তালুকদার, আলী প্রয়াস, আবীর আকাশ, জাহিদ হোসেন বাবু, সরকার হুমায়ুন এবং যাহিদ সুবহান।

পরবর্তী আলোচনা পর্বে পার্থ তালুকদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা সদস্য ড. বিএম রেজাউল করিম, কবি নজমুল হেলাল, চন্দনকৃষ্ণ পাল, ম. পানাউল্লা, সৈয়দ রবিউল আলম, রাখাল বিশ্বাস এবং অর্জুন বিশ্বাসসহ অন্যান্য অতিথিরা। তারা লোকসংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনা করেন ড. অসীম সাহা। এ পর্বের শুরুতেই ‘বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ তথ্যলিপি’ ভলিউম-১ এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি শামসুল আরেফীন এবং সুমন বণিক।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন সংগঠনের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, পরিকল্পনা এবং লোকগবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান শিল্পী অর্জুন বিশ্বাস এবং নিপা আহমেদ সারাহ্ সংগীত পরিবেশন করেন।

বাংলাদেশের ইতিহাস শুধু রাজনীতি, অর্থনীতি কিংবা রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের লোকঐতিহ্য, লোকজ জ্ঞান, গান, গল্প, প্রবাদ, আচার-অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ জীবনবোধ। এই অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা থেকে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ।

লোকসংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। গ্রামের পালাগান, বাউলধারা, লোককথা, ব্রত, লোকবিশ্বাস কিংবা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা মৌখিক ইতিহাসএসবই কিন্তু একটি জাতির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে ধারণ করে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি, নগরায়ণ ও বিশ্বায়নের প্রভাবে অনেক লোকঐতিহ্য আজ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদের মতো সংগঠনের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

সংগঠনটি লোকসংস্কৃতি ও লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি গবেষক, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী ও আগ্রহী ব্যক্তিদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার চেষ্টা করে। লোকজ ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রচারের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এর অন্যতম লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকগবেষণা কেবল অতীতকে জানার মাধ্যম নয়; এটি বর্তমান সমাজকে বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। লোকসংস্কৃতির মধ্যে মানুষের জীবনসংগ্রাম, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং সামাজিক সম্পর্কের নানা দিক প্রতিফলিত হয়। ফলে এ ধরনের গবেষণা জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে লোকসংস্কৃতি বিষয়ক আলোচনা, তথ্য বিনিময় এবং গবেষণার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদও এই ডিজিটাল মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে লোকঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমের প্রসারে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গবেষণাধর্মী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ একটি জাতি তার শিকড়কে যত বেশি জানবে, তার সাংস্কৃতিক ভিত্তি তত বেশি শক্তিশালী হবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ দেশের লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। লোকঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা মানে শুধু অতীতকে সংরক্ষণ করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতহাস সংরক্ষণ করা।

Link copied!