প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
1682
০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
ক্রীড়া উৎসব উদ্বোধন করেন এহছানুল হক মিলন
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রায় ২২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া উৎসব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয় শিক্ষাকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলার লক্ষ্যে এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে বালক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৮ জন এবং বালিকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন।
চলতি বছরের টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দলের ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন ক্ষুদে ফুটবলার অংশ নিয়েছে। অন্যদিকে বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দলের হয়ে মাঠে নেমেছে ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন খেলোয়াড়। দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়ের সংখ্যা ২২ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি।
গত ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরপর উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অতিক্রম করে সেরা দলগুলো জাতীয় পর্বে জায়গা করে নেয়। প্রায় দুই মাসব্যাপী এই আয়োজনে দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে খেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শারীরিক সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলাবোধ ও দলগত চেতনা বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি হবে।
জাতীয় পর্যায়ের খেলায় দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন মোট ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বালক দল এবং ৮টি বালিকা দল। নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে সমঅধিকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
আগামী ২০ জুন ঢাকার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও কৃতী খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সুসংগঠিত প্রতিযোগিতা এবং ছেলে-মেয়েদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেশের শিক্ষা ও ক্রীড়া অঙ্গনে একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই আয়োজন শিশুদের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা বৃদ্ধি, সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।