প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
2002
রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা কার্যক্রম
Canada কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) এ সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুদানটি UNHCR এবং International Organization for Migration-এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই অর্থের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এলপিজি (LPG) গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে, যা তাদের দৈনন্দিন রান্নার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি ক্যাম্পসংলগ্ন পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার Ajit Singh বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সহায়তা পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কক্সবাজার জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ একটি এলাকা, যেখানে নিয়মিত বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। এলপিজি ব্যবহারের ফলে শরণার্থী ক্যাম্পে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি প্রতিনিধি Juliette Murekeyisoni বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন বাস্তবতার মধ্যে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য এ সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে আইওএম-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান Giuseppe Loprete জানান, নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা শরণার্থী পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সহায়তার মাধ্যমে তারা ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজন থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।
২০১৮ সাল থেকে এলপিজি সরবরাহ রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ঘরের ভেতরের বায়ুর মান উন্নত করেছে এবং রান্নার খরচ কমাতে সহায়তা করেছে।
এই নতুন অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি শরণার্থী পরিবার এলপিজি সুবিধা পাবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় সহায়তা করবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।