বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬

বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধে ভারতের জ্বালানি ও অর্থনীতিতে বাড়ছে শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৪ এএম

17

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য নতুন সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে জানায়, ইরানের কোনো জাহাজ অবরোধের কাছাকাছি এলে তা ধ্বংস করা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই এই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যেসব জাহাজ ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, তাদের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না। তবে বাস্তবে এই পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আলোচনায় অচলাবস্থার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস—দুই ধরনের তেলের দামই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

? বৈশ্বিক প্রভাব ও জ্বালানি বাজারের চাপ

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কর কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

?? ভারতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে ভারত। দেশটি তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো—বিশেষ করে ইরাক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—ভারতের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী।

বিশ্লেষক হর্ষ পন্থের মতে, ভারতের আমদানিকৃত তেলের প্রায় অর্ধেকই এই প্রণালি দিয়ে আসে। ফলে অবরোধ বা সরবরাহ ব্যাহত হলে জ্বালানির দাম বাড়বে এবং অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে।

? এলএনজি, এলপিজি ও শিল্প খাতে চাপ

ভারত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজির বড় আমদানিকারক দেশ। এর বেশিরভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতার থেকেও সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভারতের শিল্পখাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

? সার ও কৃষিখাতে প্রভাব

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার পরিবহন হয়। ভারতের কৃষি খাত এই আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের বড় অংশই আমদানি করা হয়, যা এই সংকটে ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষ করে বপন মৌসুমের আগে সার সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

? অর্থনীতিতে সম্ভাব্য চাপ

জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে ভারতের অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে, একই সঙ্গে মুদ্রার মানও প্রভাবিত হতে পারে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় সবক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারকে তখন রাজস্ব ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

Link copied!