প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
16
বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে সরকারের সুপরিকল্পিত উদ্যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। সংসদের বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন শ্রমবাজার হিসেবে সার্বিয়া, গ্রিস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের সফরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডে শ্রমবাজার চালুর লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ চলছে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতেও কাজ করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে দেশভিত্তিক স্থানীয় বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে দূতাবাসগুলোকে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়ায় সেখানে কর্মী পাঠানোর হার বাড়াতে ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
মালয়েশিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটির শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা সম্প্রতি সফর করেছেন। এতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে বাকি শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
এছাড়া সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্র অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সুনীল অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।