শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬

শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদের পূর্ণ কার্যকর করার দাবি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

2016

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রাপ্ত জনরায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ‘জুলাই সনদ’-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ১৪টি ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই জনমতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকারের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তাদের মতে, গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্রকে পুরোনো কাঠামোর দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

ছাত্রনেতারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যার মধ্যে গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পুলিশ সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তাদের দাবি, গণভোটে জনগণ এসব সংস্কার প্রস্তাবকে সমর্থন দিলেও সেগুলোকে এখনো আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনা হয়নি। বরং জাতীয় সংসদের একটি কমিটি এসব অধ্যাদেশকে বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে, যা জনরায়ের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটকে ভিত্তি হিসেবে দেখিয়ে আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই—এমন যুক্তিকে তারা অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।

ছাত্রনেতারা মনে করেন, এই বিলম্বের ফলে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে গুম প্রতিরোধ কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো কার্যকর না হলে প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, জনগণের দেওয়া রায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত কার্যকর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে পাস করতে হবে।

একইসঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনরায়ের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামার কথাও উল্লেখ করেন তারা।

ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা জোর দিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে হলে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদের পূর্ণ কার্যকর নিশ্চিত করা জরুরি।

Link copied!