প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
2013
শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
নিয়মিত তারকা ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতেও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। আইপিএল ও পিএসএলে ব্যস্ত থাকায় দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ খেলোয়াড় এই সফরে নেই। এমনকি নিয়মিত অধিনায়কও দলে ছিলেন না। তারপরও তুলনামূলক দুর্বল স্কোয়াড নিয়েই সফরে এসে স্বাগতিকদের হারিয়েছে কিউইরা।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৬ রানে পরাজিত করে নিউজিল্যান্ড। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা।
লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ডের করা ২৪৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৯ বল বাকি থাকতে ২২১ রানে অলআউট হয়। শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান দুই ওপেনার, ফলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে পরে সাইফ হাসান ও লিটন দাস জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তারা ধীরে ধীরে ইনিংসকে এগিয়ে নেন এবং জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেন। সাইফ হাসান ৭৬ বলে ৫৭ রান করেন, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। অন্যদিকে লিটন দাস করেন ৬৮ বলে ৪৬ রান।
এই জুটির বিদায়ের পর ইনিংসের গতি কমে যায়। তাওহিদ হৃদয় ৬০ বলে ৫৫ রান করে লড়াই চালিয়ে গেলেও দলকে জয়ের পথে নিতে পারেননি। আফিফ হোসেন ৪৯ বলে ২৭ রান করে আউট হলে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
বোলিংয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন টিকনার
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন পেসার ব্লেয়ার টিকনার। তিনি ৪টি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংস
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড মাঝারি মানের সংগ্রহ গড়ে তোলে। দলের হয়ে হেনরি নিকোলস ও ডিন ফক্সক্রফট ফিফটি করেন, যা দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোরে পৌঁছে দেয়।
ইনিংস বিরতিতে মনে হচ্ছিল, সংগ্রহটি কিছুটা কম হতে পারে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেটিই শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষণ
ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট ছিল। ভালো শুরু পেয়েও সেটিকে বড় জয়ে রূপ দিতে পারেনি দল। মধ্যভাগে ধীরগতির ব্যাটিং এবং অপ্রয়োজনীয় শট নির্বাচনের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়।
অন্যদিকে, নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতেও নিউজিল্যান্ড শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে। বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে তারা ছিল বেশি কার্যকর, যা তাদের জয় নিশ্চিত করেছে।