বুধবার ০৬, মে ২০২৬

০৬ মে ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম

জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্ল্যান, মাঠে ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২৬, ০২:৩০ এএম

1679

চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা দূর করতে ১৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি মাঠে কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ৩০ এপ্রিল কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই সভা, তদারকি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

সমন্বয়ের অভাব দূর করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বছরজুড়ে খাল-নালা সচল রাখতে কমিটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে নগরীর ৫০০টির বেশি নালা এবং ২৫টির বেশি খাল পরিষ্কারের বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন। এছাড়া সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং চসিকের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা এতে যুক্ত রয়েছেন। বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম সভাতেই বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে জরুরি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা নিয়মিত জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

চসিক জানিয়েছে, নগরীর পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ৫০০টির বেশি ছোট-বড় নালা এবং ২৫টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ খাল থেকে পলি, ময়লা ও আবর্জনা অপসারণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—সারা বছর খাল ও নালা সচল রাখা, বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কাজের সমন্বয় করা, নতুন প্রকল্প গ্রহণ, চলমান কাজ তদারকি, অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ প্রদান।

গত কয়েক বছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতায় নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত সুফল পায়নি। সর্বশেষ মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। পরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্যসচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, সব সংস্থা এখন এক টেবিলে কাজ করছে। বর্ষার আগেই নালা-খাল সচল করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

Link copied!