মঙ্গলবার ০৫, মে ২০২৬

০৫ মে ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

দেশে তেল-গ্যাসের তিনটি অনুসন্ধান কূপ খনন করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ১১:৩২ এএম

1690

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্যাস ও তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনটি নতুন অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় দুটি গ্যাস কূপ এবং একটি তেল কূপ খনন করা হবে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী “শ্রীকাইল ডিপ-১” এবং “মোবারকপুর ডিপ-১” নামে দুটি গভীর গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ পায় চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কারিগরি ও আর্থিকভাবে তাদের প্রস্তাবকে সর্বোত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দুটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭১৩ কোটি টাকা।

একই বৈঠকে সিলেট অঞ্চলের “সিলেট-১২” নামে একটি তেল অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্পও অনুমোদিত হয়। এই কাজও চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে, যারা দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। এ প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৩২ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে তিনটি কূপ খনন প্রকল্পে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গভীর স্তরের অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাস ও তেলের মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা দেশের জ্বালানি ঘাটতি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়লেও উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Link copied!