মঙ্গলবার ০৫, মে ২০২৬

০৫ মে ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডি: তদন্তে ৫৭ জন নিহতের তথ্য, মানবতাবিরোধী মামলার অগ্রগতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ১১:১৭ এএম

1692

২০১৩ সালের আলোচিত শাপলা চত্বর ঘটনা-কে ঘিরে নতুন করে তদন্তে ৫৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ ৫ মে—ঘটনার বার্ষিকীতে এ বিষয়ে নতুন অগ্রগতির তথ্য সামনে আসে। ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অবস্থান নেয়। বিভিন্ন দাবি ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সেদিন সারাদেশে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

দিনভর উত্তেজনার পর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি—যৌথ অভিযান পরিচালনা করে শাপলা চত্বর এলাকা খালি করে দেয়। ওই অভিযানকে ঘিরে প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে মোট ৫৭ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় শাপলা চত্বর এলাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন এবং চট্টগ্রামে ৫ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মামলায় তৎকালীন ও পরবর্তী সময়ের একাধিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। বর্তমানে কারাগারে থাকা কয়েকজনের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন। আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির নামও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, “তৎকালীন সরকারের যেসব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সরাসরি জড়িত ছিলেন, কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছেন—তাদের কাউকেই আইনের বাইরে রাখা হবে না।”

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আবারও সক্রিয়ভাবে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। নতুন তদন্ত প্রতিবেদনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

Link copied!