প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
1712
২৫ মে ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, কেবল বাজেটের আকার বৃদ্ধি করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। সরকারের উচিত বাজেটের গুণগত মান এবং কার্যকারিতার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলাপ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস।
মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় ধরনের অপচয় ও অনিয়ম রয়েছে। সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া কেবল বাজেট বা এডিপির আকার বাড়ানো হলে সেই অপচয় আরও বাড়বে। তার মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে লিকেজ বন্ধ করাই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাজেটের আকার বাড়িয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হলেও তা বাস্তব অর্থনৈতিক উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয় না। দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং শুধু সুদের হার বাড়িয়ে এই সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় শ্রমঘন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য শিক্ষাখাতে দ্রুত সংস্কার জরুরি।
কৃষি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। প্রান্তিক চাষিদের সুরক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণ না করলে কৃষি খাত আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীতের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিপুল ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল দায়িত্ব বেসরকারি খাতের, অতিরিক্ত সরকারি চাকরি বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর সহায়তা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও দুর্নীতি, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের কারণে অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
তিনি জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সময়কালে দেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার মতো নানা চাপে ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংকট সাময়িক নয়, বরং কাঠামোগত।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌম ঋণ বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং সুদ ও মূল পরিশোধে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
কর ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম কম। করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য ডিজিটাল লেনদেন, ই-ফাইলিং এবং তথ্যভিত্তিক কর ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান, আশরাফ আল দীন এবং ড. শিব্বির আহমদসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।