সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

1701

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে প্রক্টর কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।

শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তথ্য গোপন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণারও অভিযোগ তোলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা তাবাসসুম। তিনি বলেন, গত ১২ মে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত দুইটা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

ফারজানা তাবাসসুম অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু সময়সীমা শেষ হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বরং প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ১৩ মে উপাচার্যের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করে। শিক্ষার্থীরা এটিকে প্রশাসনিক অসততা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একজন উপাচার্যের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। কিন্তু প্রশাসন বরং নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, সারা রাত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবুও তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে তারা হতাশ হন।

তাদের অভিযোগ, ভোর পর্যন্ত প্রক্টর আন্দোলনকারীদের সামনে আসেননি। পরে উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে মন্তব্য করেন, যা আন্দোলনকারীদের মতে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপমানজনক।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে শুক্রবার রাত দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করায় প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবিতে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

Link copied!