সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

নতুন ভিসিকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা, ডুয়েটে চলছে ‘ডুয়েট ব্লকেড’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ১১:১৯ এএম

1698

ডুয়েট ক্যাম্পাসে ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এ চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনেও তালা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সরকার মোহাম্মদ ইকবাল–কে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নিয়োগ ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা শুরু করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়া উচিত।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা বেশি থাকায় তাদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ কার্যকর হবে।

নতুন ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, মিছিল ও নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। শুক্রবারও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নেন।

পরবর্তীতে নতুন উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে ব্যানার টাঙানো হয়। রোববার ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— নতুন ভিসি হিসেবে মোহাম্মদ ইকবালের নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষককে উপাচার্য নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য রোববার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভা করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে চলমান এ আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। তবে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিবৃতি সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, ডুয়েটিয়ানদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

Link copied!