সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

লুটপাটের ঋণ আলাদা স্লটে রাখলে কমবে খেলাপি ঋণ: বিশ্লেষকদের মত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

1698

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়ে সেমিনার

দেশের ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের মাধ্যমে নেওয়া ঋণগুলোকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে আলাদা স্লটে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এতে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে এবং দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়, প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টর: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ মতামত দেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির স্বতন্ত্র পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, যেসব ঋণ সরাসরি লুটপাট বা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে প্রচলিত খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে আলাদা করলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা কিছুটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সঠিক নীতি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ইসলামী ব্যাংকগুলো আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরে যেতে পারবে। তার মতে, ইসলামী ব্যাংকগুলোতে তুলনামূলক বেশি ঋণ বিতরণের সুযোগ থাকায় একটি বিশেষ গোষ্ঠী এসব ব্যাংককে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।

ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ আরও বলেন, ভারতে ১৯৯৩ সালেই খেলাপি ঋণসংক্রান্ত আইন কার্যকর হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের আইন কার্যকর হয়েছে অনেক পরে। তার দাবি, দেশের খেলাপি ঋণ আইনে এখনো বেশ কিছু দুর্বলতা ও ফাঁকফোকর রয়েছে, যা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছে।

পরে তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণকে আলাদা শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র পরিষ্কার হবে এবং এতে ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম হায়দার। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ব্যাংক থেকেই বিপুল পরিমাণ অর্থ লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই সংকটের কারণে শিল্প খাতে বিনিয়োগ কমে গেছে এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাত চাপের মুখে পড়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও কলামিস্ট ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৯৮০’র দশকে ইসলামী ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব ধীরে ধীরে ব্যাংকিং খাতে বাড়তে থাকে।

তার মতে, পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসনের অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির কারণে খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়ম বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে অর্থপাচার, তারল্য সংকট এবং গ্রাহকদের আস্থাহীনতা পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে সুশাসন নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

Link copied!