প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
1700
০৬ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম
জাতীয় ঐকমত্য, স্বচ্ছতা এবং সৃজনশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সরকার রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং সেই পরিকল্পনায় চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিস এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য কাজ করছে না, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্রসহ সৃজনশীল শিল্প আধুনিক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ “সফট পাওয়ার”, যা দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মূল্যবোধ বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সরকার সংশ্লিষ্ট শিল্পী, নির্মাতা, সমালোচক ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। জাতীয় ঐকমত্য ও অংশীজনদের সম্পৃক্ততা ছাড়া মানসম্মত সৃজনশীল শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলচ্চিত্র খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নবগঠিত চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ও জুরি বোর্ডকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। অতীতে এসব বোর্ড নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও এবার সংশ্লিষ্ট মহল থেকে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গেছে, যা সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক দিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান বৃদ্ধির বিষয়েও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে চলচ্চিত্র খাতে অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অনুদানের অর্থ দ্রুত ছাড় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্পন্ন করতে কঠোর নজরদারি করা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়াকে চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একক সিনেমা হলগুলো টিকিয়ে রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংস্কার করার জন্য সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দর্শকদের হলমুখী করতে আধুনিক ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিল্প সমালোচক ও চলচ্চিত্র বিশ্লেষক মঈনুদ্দিন খালেদকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিসের সভাপতি ড. জহিরুল ইসলাম কচি এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।