শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম

বাজেটে শ্রমিকরা সবসময় বৈষম্যের শিকার: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১১:০৭ এএম

1711

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়নের ইতিহাসে শ্রমজীবী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাস হওয়া ৫৪টি জাতীয় বাজেটেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়নি। এবারের বাজেটে সেই বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘শ্রমিকের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাজেট শুধু সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি রাষ্ট্র ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত গুরুত্ব পায় না এবং শ্রমকল্যাণ খাতে বরাদ্দও অত্যন্ত সীমিত থাকে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বাজেট পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়ভিত্তিক হতে পারে না। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার পেছনে শ্রমিক সমাজের সবচেয়ে বড় অবদান থাকলেও জাতীয় বাজেটে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন প্রতিফলিত হয় না।

আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া জাতীয় বাজেট অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এবারের বাজেটেও যদি শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়, তাহলে বৈষম্যের সংস্কৃতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

শ্রমিকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসলাম শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত উপার্জনের মর্যাদা স্বীকৃতি দিয়েছেন। শ্রমিকদের সম্মান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দও নিশ্চিত করা হয়নি, যা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়া ১৪৯ জন শ্রমিকের আত্মত্যাগ এখনো রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলিত হয়নি। নতুন বাজেটে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে শ্রম মন্ত্রণালয় তুলনামূলক কম বরাদ্দ পেয়েছে। অথচ প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমিক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এই বাস্তবতায় শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ অত্যন্ত জরুরি।

সভায় বক্তব্য দেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কবির আহমেদ, গোলাম রাব্বানী, মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, মুহিবুল্লাহ, দফতর সম্পাদক নুরুল আমিন, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের মতামত ছাড়া বাজেট প্রণয়ন করলে তা একপাক্ষিক হয়ে পড়ে। তারা শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শ্রমজীবী মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সভায় জাতীয় গার্মেন্টস ঐক্য জোট, প্রগতিশীল নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেস, গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, পরিবহন শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা থেকে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শ্রমিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে।

Link copied!